Header Ads Widget


 

সাটুরিয়ার নীল চাষ ও নীল বিদ্রোহের বীরত্বগাথা ট্র‍্যাজিক হিরো রহমত আলীর কথা : লেখক আসাদুজ্জামান আসাদ

 সাটুরিয়ার নীল চাষ ও নীল বিদ্রোহের বীরত্বগাথা ট্র‍্যাজিক হিরো রহমত আলীর কথা : 


ঐতিহাসিক তিল্লীতে স্থাপিত মানিকগঞ্জের অন্যতম বড় নীলকুঠি। কত রক্ত, অভিশাপ, অনাচার, আর শোষিতে নীরব স্বাক্ষী হিসেবে স্মৃতি বহন করে চলেছে তিল্লীর নীলকুঠি। তিল্লী বাজারের পাশে ধলেশ্বরীর ভূগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া কুঠির অংশ বিশেষ এখনও লক্ষ্য করা যায়।

তিল্লীর প্রাচীনতম কুঠি ও কারখানা ধলেশ্বরী করাল গ্রাসে বিলীন। ধলেশ্বরী নাটকীয় গতিপথ পরিবর্তন এবং ভাঙ্গা গড়ার আবর্তে আদি তিল্লীর অস্তিত্ব বিলুপ্ত। স্বভাবতই প্রাচীন নীলকুঠি ও কারখানা মূল তিল্লীর সঙ্গেই বিলীন হয়। মূল তিল্লী ভেঙ্গে গেলে পারতিল্লীতে নীলকুঠি স্থাপন পরে পারতিল্লী ভেঙ্গে গেলে চরতিল্লীতে কুঠিয়ালগণ নীলকুঠি ও কারখানা স্থাপন করেন। এই নীল কারখানার আংশিক ধংবসাবশেষ অভিশপ্ত রক্ত নিংড়ানো নীল চাষের নীরব স্বাক্ষী হিসেবে নিজের অস্তিত্ব জাহির করছে।

মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চাষ করা নীল এই তিল্লীতে নিয়ে আসা হত। এখান থেকেই বড় বড় নৌকা ও জাহাজ বোঝাই করে দেশ এবং দেশের বাহিরে পাঠানো হত। এই কুঠির দায়িত্ব ছিলেন ইংরেজ একাবেথ সাহেব। চরম নির্যাতনকারী একাবেথ সাহেব তৎকালীন জমিদারদের হার মানিয়ে দিয়েছিলেন।


নীলকরদের অত্যাচারের তৎকালীন বাস্তব চিত্র পাওয়া যায় গল্পকথা আর কিছু বই পুস্তকে। যারা তখন কলম ধরেছিলেন তাদের অন্যতম নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র ও মাইকেল মধুসূধন দত্ত। দীন বন্ধু 1830 সালে চব্বিশ পরগণায় অত্যন্ত দরিদ্র ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃদত্ত গন্ধর্বনারায়ণ নাম বদলে দীনবন্ধু নাম গ্রহণ করেন। তার লেখা 1860 সালে প্রকাশিত অমর নাটক নীল দর্পন বাংলায় নীলচাষ এবং নীলকুঠিয়ালদের শোষন নীপিড়নের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। পরবর্তীতে উক্ত নাটক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত পাদরী লঙের তত্ত্বাবধানে ইংরেজীতে অনুবাদ করে ইংরেজদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেন।

নীল চাষের বিরুদ্ধে যখন সারা বাংলা উত্তাল তখন মানিকগঞ্জেও প্রথম বিদ্রোহ হয় তিল্লীতে। নীলকরদের অত্যাচার, অবিচার, লাঞ্ছনা, হত্যা, গুমের প্রতিবাদ শুরু হয় ভাটারা গ্রামের রহমত আলীর নেতৃত্বে। 

এক সন্ধ্যায় রহমত আলী তার সহযোগীদের নিয়ে তিল্লীর নীলকুঠি আক্রমন করে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। অত্যাচারী কুঠিয়াল একাবেথ কৌশলে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় কাগমারী পরগণার নীলকুঠিতে। তার দেওয়ান গোমস্তাগণ প্রাণ বাচানোর জন্য ধলেশ্বরীতে ঝাপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাদের আর কখনও দেখা যায়নি বলে জানা যায়। 

এই বিদ্রোহের পর রহমত আলী ও তা সহযোগীরা নিরুদ্দেশ হয়ে যান। ইংরেজ সরকার উক্ত বিদ্রোহে মামলা করেন। রহমত আলী ও তার সহযোগীদের অনুপস্থিতিতে মামলা পরিচালনা হয়। মামলায় সবারই জেল জরিমানা এবং তাদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ভাটারা গ্রামটি পুরোটাই জনশুন্য হয়ে পড়ে। 

এই গ্রামটি এখনও বাজেয়াপ্ত ভাটারা হিসেবেই এখনও সেই স্বাক্ষী বহন করে চলেছে। একবার ধলেশ্বরীর গর্ভে বিলীন হয় ভাটারা গ্রামটি। চর জেগে পূনরায় বসতি স্থাপন শুরু হলেও বাজেয়াপ্ত ভাটারা নামেই পরিচিত। 1910-14 সালের জুরিডেকশন লিষ্ট অফ মানিকগঞ্জ ভূমি জরিপে উক্ত ভাটারাকে বাজেয়াপ্ত ভাটারা হিসাবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

তিল্লীর বিদ্রোহে অনুপ্রাণীত হয়ে মানিকগঞ্জে নীল বিদ্রোহ শুরু এবং জোরদার লাভ করে। আমরা ঐতিহ্যে আলোকিত সাটুরিয়া পরিবার থেকে রহমত আলী ও সেইসব নাম না জানা বীর সেনাদের শ্রদ্ধা ও কূর্ণিশ জানাই।

পরবর্তীতে হয়ত আরোও তথ্য সম্বলিত লেখা লিখবে আলোকিত পরিবার।


আসাদুজ্জামান আসাদ



Post a Comment

0 Comments